মুকসুদপুরে ৩৪ শতাংশ জমি নিয়ে বিরোধ, নারীসহ দুজনকে মারধরের অভিযোগ
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে ৩৪ শতাংশ জমির মালিকানা, নামজারি ও বিক্রির উদ্যোগকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে নারীসহ দুজনকে মারধর, হামলা, পিস্তল প্রদর্শন ও স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও আইনগত ব্যবস্থা দাবি করেছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী লাবনী আক্তারের থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি লোহার রড, রামদা, বাঁশের লাঠি ও ইট নিয়ে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় লাবনী আক্তার ও নাসির উদ্দিন শেখকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে লাবনী আক্তারের পরনের কাপড় টানাহেঁচড়া করে শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং তার গলায় থাকা আনুমানিক আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন, যার মূল্য প্রায় ১ লাখ ১২ হাজার টাকা, নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, হামলাকারীরা তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেন এবং একজন পিস্তল প্রদর্শন করেন। পরে আহতরা মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
জমি নিয়ে বিরোধের সূত্র…..
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মুকসুদপুর উপজেলার বড়ভাটরা মৌজার ৩৪ শতাংশ জমি তাদের দাদা বাহের শেখের নামে একসনা বন্দোবস্তের আওতায় ছিল। জমিটির পুরোনো খতিয়ান নম্বর ৫৪, বর্তমান খতিয়ান ২৯৭; পুরোনো দাগ ১০৪৪ এবং বর্তমান দাগ ১২৪৯ বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, নীলকণ্ঠ মণ্ডল ওই জমি নিজের নামে নামজারি করে তা বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে মুকসুদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৃথক লিখিত আবেদনও করা হয়েছে।
তবে জমিটির প্রকৃত মালিকানা, বন্দোবস্তের বৈধতা, নামজারি এবং বর্তমান দখলসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সরকারি নথিপত্র যাচাই ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
প্রশাসন ও পুলিশের বক্তব্য….
ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পুলিশের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংযোজন করা হবে। একই সঙ্গে অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, নিরাপত্তা এবং আইনানুগ প্রতিকার প্রত্যাশা করছেন।
অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলো তদন্তসাপেক্ষ এবং আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
Leave a Reply