আলফাডাঙ্গায় হতদরিদ্র কৃষকের পরিবারের সম্পত্তি জবরদখলের অভিয়োগ অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে*
মোঃ টিপু সুলতান খাঁন রিপোর্ট
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এক হতদরিদ্র কৃষক পরিবারের জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে এক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বানা ইউনিয়নের দক্ষিণ শিরগ্রামে মৃত: সত্তার মোল্লার ছেলে আলিম মোল্লা এ বিষয়ে জানান, উপজেলা জয়দেবপুর মৌজায় তাঁর নানা মরহুম পাচু মোল্লার ২২.৩৩ শতাংশ জমি ছিল। নানা মৃত্যুবরণ করার পর ওয়ারিশসূত্রে জমির মালিক হন তাঁর একমাত্র কন্যা আয়শা বেগম (আলিম মোল্লার মা)।
কিন্তু পরিবারটি আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও প্রভাবশালী মহলের সমর্থন না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই জমির দখল বুঝে নিতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেন আলিম মোল্লা। তাঁর দাবি, জয়দেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মুজিবুর রহমান বেআইনিভাবে জমিটি জবরদখল করে রেখেছেন।
ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিকবার গ্রাম্য সালিশের উদ্যোগ নেওয়া হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি তা উপেক্ষা করেন এবং কোনো সালিশ বৈঠকে উপস্থিত হননি। পরে আলিম মোল্লা ফরিদপুর আদালতে মামলা দায়ের করেন। তবে কিছুদিন পর আদালতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে মামলাটি প্রত্যাহার হয়ে গেছে।
পরবর্তীতে তিনি ও তাঁর মা আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। তৎকালীন ইউএনও অভিযোগটি তদন্ত ও মীমাংসার দায়িত্ব দেন বুড়াইচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল ওহাব পান্নু মিয়ার ওপর। চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে নোটিশ পাঠিয়ে নির্ধারিত তারিখে ইউনিয়ন পরিষদে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিলেও অভিযুক্ত মুজিবুর রহমান সেখানে উপস্থিত হননি বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে আলিম মোল্লা বলেন, আমরা গরিব ও অসহায় মানুষ। প্রভাবশালীদের দাপটে আমরা আমাদের ন্যায্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমি উপজেলা প্রশাসন ও সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, যেন আমরা আমাদের মায়ের মালিকানাধীন জমি ফিরে পাই।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুজিবুর রহমানের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে ভুক্তভোগী পরিবার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
Leave a Reply