অতিরিক্ত ফি আদায় ও অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ নিয়ে প্রশ্নে ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজ
ফরিদগন্জ প্রতিনিধি নাঈম হোসেন পলোয়ানঃ
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ফরিদগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফরম ফিলাপকে কেন্দ্র করে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে দ্বাদশ শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ করা না করার বিষয়ে ঘোষণার বিপরীতে বাস্তবে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
বোর্ড নির্ধারিত ফি কত
শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত ফি তালিকা অনুযায়ী—
বিজ্ঞান শাখা (চতুর্থ বিষয়সহ) বোর্ড ফি ২,১৪০ টাকা এবং কেন্দ্র ফি (ব্যবহারিকসহ) ৮৫৫ টাকা। মোট ২,৯৯৫ টাকা।
মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখা (অষ্টম/চতুর্থ বিষয়সহ) বোর্ড ফি ১,৯৪০ টাকা এবং কেন্দ্র ফি ৪৯৫ টাকা। মোট ২,৪৩৫ টাকা।
অভিযোগ: নির্ধারিত ফি’র চেয়ে বেশি আদায়
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, কলেজ কর্তৃপক্ষ বোর্ড নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নিচ্ছে।
তাদের দাবি অনুযায়ী—
বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৩,০৪৫ টাকা
মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২,৬২৫ টাকা আদায় করা হচ্ছে।
এছাড়া “অতিরিক্ত ক্লাস” বাবদ ৭০০ টাকা এবং কলেজ মসজিদের জন্য ১০০ টাকা নেওয়া হলেও এসব অর্থের কোনো রসিদ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বোর্ডের নির্দেশনা কী বলছে
শিক্ষা বোর্ডের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য পরীক্ষার্থীদের তালিকা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেই তালিকা অনুযায়ী পরীক্ষার্থী নির্বাচন করতে হবে।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলো চাইলে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় মডেল টেস্ট নিতে পারবে, তবে তা কোনো শিক্ষার্থীর জন্য বাধ্যতামূলক করা যাবে না এবং এর জন্য অতিরিক্ত ফি আদায় করা যাবে না।
নির্বাচনী পরীক্ষায় ফেল করেও ফরম ফিলাপ
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, দ্বাদশ শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের ফরম ফিলাপ না করার কথা বলা হলেও বাস্তবে কিছু শিক্ষার্থীর কাছ থেকে পুনরায় পরীক্ষা নিয়ে ফরম ফিলাপ করানো হয়েছে।
অধ্যক্ষের বক্তব্য
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শাহ্ মো. মাছুম বিল্লাহ অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন,
“সরকারি ঘোষণার বাইরে অল্প কিছু টাকা নেওয়া হয়েছে অনলাইন খরচ এবং বিকাশের মাধ্যমে পে-অর্ডার করার খরচ মেটানোর জন্য।”
তিনি আরও জানান, ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের দ্বাদশ শ্রেণির যারা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে তাদের সবার ফরম ফিলাপ করা হয়েছে। তবে যারা ১ থেকে ৪টি বিষয়ে ফেল করেছে তাদের পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে এবং প্রতি বিষয়ে ৫০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে। পরে তাদের ফরম ফিলাপ করানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের ভালোভাবে পড়াশোনার জন্য উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি তারা বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ভালো ফলাফল করবে। তবে যারা চারটির বেশি বিষয়ে ফেল করেছে তাদের ফরম ফিলাপ করা হয়নি।”
তদন্তের দাবি
এদিকে অতিরিক্ত ফি আদায় ও ফরম ফিলাপ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
Leave a Reply