গোপালগঞ্জে মুসলিম মেয়ের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে হিন্দু পরিবার ভিটে ছাড়া
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
বিয়ের নামে এক মুসলিম মেয়ের প্রতারণার ফাঁদে পড়ে হিন্দু (ব্রাহ্মণ) পরিবার ভিটে-বাড়ী ছাড়া হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলতলী ইউনিয়নের গান্ধিয়াশুর গ্ৰামে। প্রতারণার ফাঁদ পাতা ওই মেয়ের বাড়ি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের পারকুশলী গ্ৰামে। তার পিতার নাম লায়েক আলী শেখ।
এ ঘটনায় নিরীহ ওই (ব্রাহ্মণ) পরিবারের সদস্য সঞ্জয় চক্রবর্তী বাদী হয়ে ৭ জনের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জ আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর-গোপালগঞ্জ সি,আর-১৪৬৫/২০২৬। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)কে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
অপরদিকে, এলাকার প্রভাবশালী ও লাঠিয়াল ব্যক্তিবর্গের নামে মামলা করায় চরম নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ভিটে বাড়িতে ঢুকতে পারছেন না সঞ্জয় সহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। ইতোমধ্যেই আসামীরা বাদীসহ তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রাণ নাশের হুমকি দিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১নং আসামি পলি বেগম একজন মুসলিম পরিবারের বিবাহিত মেয়ে, তার দুইটি কন্যা সন্তান রয়েছে এবং গোপালগঞ্জের রিজেন্ট কলেজে চাকুরী করেন। অপরদিকে, মামলার বাদী সঞ্জয় চক্রবর্তী একজন হিন্দু পরিবারের অবিবাহিত ছেলে, এবং গোপালগঞ্জ শহরের একটি ওষুধের ফার্মেসীতে কাজ করতেন। ওষুধ কেনাকাটার একপর্যায়ে দু’জনের মধ্যে পরিচয় হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে, পলি সঞ্জয়ের বাড়িতে বেড়াতে যায়, এসময় সঞ্জয়ের বড় ভাবী শিল্পী চক্রবর্তী ও পাশ্ববর্তী প্রভাবশালী ও চাঁদাবাজ ব্যক্তি সোমিত্র বিশ্বাস, কাশিনাথ বিশ্বাস, চন্দন মন্ডল ও নির্ময় মন্ডলের সাথে পরিচয় হয় পলির।
কিছুদিন পরে ওই প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে সঞ্জয়ের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে ওঠে এবং মুসলিম ধর্ম ত্যাগ বা হিন্দু ধর্ম গ্ৰহণ না করে কোন প্রকার আইনি ভিত্তি ছাড়াই শাখা সিঁদুর পরে সঞ্জয়ের বাড়িতে স্ত্রীর অধিকারের দাবিতে অবস্থান শুরু করে। পরিবেশ বেগতিক দেখে সঞ্জয় ও তার পরিবারের লোকজন তাকে নিরুপায় হয়ে স্ত্রী হিসেবে মেনে নেয়।
এভাবে কয়েকদিন সংসার করেন পলি। এর কিছুদিন পরে সৌমিত্র বিশ্বাস, কাশিনাথ বিশ্বাস, চন্দন মন্ডল ও নির্ময় মন্ডলকে সাথে নিয়ে শুরু করে টাকা হাতানোর মিশন। বিভিন্ন অজুহাতে পলি সঞ্জয়ের সংসারে শুরু করে হট্টগোল, পাতানো হয় স্থানীয় সালিস বৈঠক। সঞ্জয়কে বলা হয় সালিসদের ২লক্ষ এবং পলি বেগমকে ১০লক্ষ টাকা দিতে তাহলেই মিটমাট হয়ে যাবে সবকিছু। টাকা দেওয়ার বিষয়টি সঞ্জয়ের ভাবি ও ভাইয়েরা আপত্তি তোলে এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয় কাশিনাথ, সৌমিত্রসহ এলাকার লাঠিয়াল বাহিনী গত১১সেপ্টম্বর ২০২৬ তারিখ রাত ১১টার দিকে সঞ্জয়ের পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় ২ বছরের শিশু অবন্তিকা সহ তার মা বর্ণা চক্রবর্তী আহত হয়। আহত ওই নারী ও শিশুকে চার দিন গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা নিতে হয়েছে বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সরেজমিনে পারকুশলী গ্ৰামে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাধারণ মানুষ সাংবাদিকদের জানায়, পলি বেগম একজন বেপরোয়া নারী, সে একাধিক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে। তার প্রথম বিবাহ হয় পাশের গ্ৰাম বর্নিতে, ওই স্বামীকে অল্প কিছুদিনের মাথায় তালাক দেন পলি, আদায় করে নেন মোটা অংকের টাকা। এরপর থেকে বিবাহ বাণিজ্যের দিকে নজর দেয় পলি, করেন একের পর এক একাধিক বিবাহ। বর্তমানে একজন স্বামী বিদেশে থাকে, এই স্বামীর ঘরে দুইটা কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। শোনা যাচ্ছে বর্তমানের ওই স্বামীকে কোন প্রকার তালাক না দিয়েই গান্ধিয়াশুর গ্ৰামের সঞ্জয় চক্রবর্তী নামের এক হিন্দু ছেলেকে বিয়ের নামে ফাঁসিয়ে তাদের বাড়িতে অবস্থান করছে। এই মেয়ে পারকুশলী গ্ৰামের কলঙ্ক।
সে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। তার খারাপ অভ্যাসের কারনে আপন ভাই বোনেরা পলির পরিচয় দেয় না।
একে আইনের আওতায় আনা উচিত।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত পলি বেগমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাক্ষাৎ না মেলায় তার কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
Leave a Reply