পাসপোর্ট অফিসে নিজে গিয়ে ভুক্তভোগীর সমস্যা সমাধান করে দিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের এমপি ডা. কে এম বাবর
কাজী সেলিম নয়ন, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে দিনের পর দিন নানা অনিয়ম ও সেবা গ্রহীতারা নানভাবে হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হয়ে আসছিলেন। এ বিষয়টি নিয়ে দেশের একাধিক প্রথম শ্রেণির পত্রিকা সহ জনপ্রিয় বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়ে চড়ে বসে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসন। গত ১১ অক্টোবর গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি এবং সেবা গ্রহীতারা যেন কোন ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার না হন সে বিষয়ে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর এবং গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (উপসচিব) মোঃ আরিফ- উজ- জামান গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজকে প্রয়োজনীয় দিক নির্দেশনা প্রদান করেন।
তারপরেও মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গ্রাহকেরা হয়রানি ও ভোগান্তির শিকার হন। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাউত খামার এলাকা থেকে নতুন পাসপোর্ট করার জন্য যথাযথভাবে আবেদন ফরম পূরণ করে সকাল ৮ টায় এসে পাসপোর্ট অফিসের নিচতলায় ১০১ নম্বর কক্ষে জমা দেওয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে দায়িত্বরত বাপ্পু মিত্র’র নিকট আবেদন ফরম জমা দেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়ান। সার্ভার সমস্যা সহ নানা অজুহাতে রানা সহ আরো কয়েকজনের আবেদন ফরম দুপুর পর্যন্ত জমা নেননি অথচ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। অন্যান্যদের আবেদন ফরম জমা নেন। পরে নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী রানা মানবাধিকার ও গণমাধ্যমকর্মী কে এম সাইফুর রহমানের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর কে বিষয়টি জানান। বিষয়টি অবগত হয়ে সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর কিছু সময় পরেই গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ভুক্তভোগী রানাকে সাথে নিয়ে সহকারী পরিচালক (এডি) নাহিদ নেওয়াজের কক্ষে প্রবেশ করেন। এডি নাহিদ নেওয়াজ আবেদন ফরম পর্যালোচনা করে মুহূর্তেই পাসপোর্টের আবেদন জমা নেন। অসময় গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজ সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক হয়ে সেবা প্রদানের নির্দেশ প্রদান করেন।
এ সময় গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক নাহিদ নেওয়াজ, মানবাধিকার ও গণমাধ্যমকর্মী কে এম সাইফুর রহমান, বিএনপি নেতা মাহবুব আলী সোহেল, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোঃ তৌফিকুল ইসলাম, সদস্য সচিব ফজলুল কবির দারা, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি সিকদার শহিদুল ইসলাম লেলিন, জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন লিপটন, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান পলাশ, জেলা ছাত্রদলের নবনির্বাচিত সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান সাজিদ, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান সহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের নানা অনিয়ম, ভোগান্তি ও হয়রানি বন্ধে এবং রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে শতকর্ম ব্যস্ততার মাঝেও গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর ভুক্তভোগীর ফোন পেয়ে সরেজমিনে গোপালগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ভুক্তভোগীদের কথা শুনেন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানকে দিয়ে তা মুহূর্তেই সমাধান করে দিয়ে ভবিষ্যতের জন্য বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বলেই মনে করছেন ভুক্তভোগী সহ সচেতন মহল।
Leave a Reply