কোটালীপাড়ায় কান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিন্দ্রনাথ সরকারের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, ছেচ্ছাচারীতাসহ দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ঘটনায় উক্ত বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা তিলক চন্দ্র বাড়ৈ গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরবার একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, কান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রবিন্দ্রনাথ সরকার ২০১০ সালে যোগদান করার পর থেকেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। স্কুল উন্নয়নের জন্য সরকারি বরাদ্দের লক্ষ – লক্ষ টাকা আত্মসাৎ, স্কুল ফান্ডের টাকার হিসাব জালিয়াতি, দীর্ঘস্থায়ী ছুটি কাটানো, ছেচ্ছাচারীতা সহ স্কুলের কর্মচারী নিয়োগে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ রয়েছে উক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪-২৫ অর্থবছরে স্কুল উন্নয়নের জন্য ১১ লক্ষ টাকার অনুদান আসে। সেখানে প্রধান শিক্ষক নামমাত্র ৩ লাখ টাকার কাজ করে বাকি টাকা নিজেই আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সন্দীপ হালদার ব্যাক্তিগতভাবে স্কুলের আসবাবপত্র কিনতে ২ লক্ষ টাকা প্রধান শিক্ষকের কাছে দিলে ওই টাকার কোন কাজ করেননি। স্কুলের চতুর্থ শ্রেনির কর্মচারী নিয়োগেও ব্যাপক দুর্নীতি করেছেন, দপ্তরি নিয়োগে এক ব্যাক্তির থেকে ঘুষ হিসেবে ১২ লাখ টাকা গ্রহন করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়াও স্কুলের জমিদাতা সদস্যের কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে তাকে নিয়োগ দিয়েছেন প্রধান শিক্ষক। এইসব বিষয় নিয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে বারবার কারন দর্শানোর নোটিশ দিলেও তিনি ব্যক্তিগত ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে সবকিছু এড়িয়ে গেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক নিজেকে মুকুট হীন রাজা মনে করেন সবসময়। কোন প্রয়োজন না থাকলেও সে নিজের ইচ্ছেমত ছুটি কাটাতো অথচ আমরা সহকারী শিক্ষকদের অনেক জরুরী সময়েও ছুটি দিতো না। স্কুলের সকল বিষয়ে তার সিদ্ধান্তই শেষ সিদ্ধান্ত বলে চূড়ান্ত হতো৷ কখনোই কারো সাথে কিছু পরামর্শ করেন না প্রধান শিক্ষক। কোন শিক্ষক তার বিরুদ্ধে কথা বললে তাকে বিভিন্ন রকম হুমকিও দেন তিনি। আমরা এই স্কুলে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর কাজের পরিবেশ চাই।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ সত্যি নয় তবে কিছু ক্ষেত্রে অল্প অনিয়ম হতে পারে। তিনি আরো দাবি করেন, যে খাতায় স্কুলের আয়-ব্যায় হিসেবে লিখে রাখাতাম ওগুলো অফিসরুম থেকে চুরি হয়ে গেছে এইজন্য সকল হিসাব পরিস্কার করতে পারিনি।
Leave a Reply