কোটালীপাড়ায় হামের প্রকোপ বাড়ছে, ১০ দিনে হাসপাতালে ২৩ রোগী ভর্তি
কে এম সাইফুর রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা।
গত ২ এপ্রিল থেকে আজ ১২ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হামে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে অন্তত ২৩ জন শিশু। এদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৫ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আরো ৫ জন রোগী। এছাড়া গুরুতর অবস্থার কারণে ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর সহ উচ্চতর স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রেফার করা হয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে শিশু ও কিশোরদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, চোখ লাল হওয়া ও কাশি—এসব উপসর্গ নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে আসছেন। উপজেলায় হিরণ ও কুশলা ইউনিয়নে আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি বলে জানা গেছে।
কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কুমার মৃদুল দাস বলেন, গত কয়েকদিনে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। হামে আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালে আলাদা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সংক্রমণ রোধে রোগীদের পৃথক রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অধিকাংশ রোগীই শিশু, যাদের অনেকেই নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বাইরে ছিল। অভিভাবকদের অনীহার কারণেই অনেক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তিনি আরও জানান, হিরণ ও কুশলা ইউনিয়নে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। হাম একটি সংক্রামক রোগ হলেও সচেতনতা ও সময়মতো চিকিৎসা নিলে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব। তবে জটিলতা দেখা দিলে নিউমোনিয়া সহ অন্যান্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই অভিভাবকদের আরও সতর্ক হতে হবে।”
হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর অভিভাবক বলেন, হঠাৎ করে জ্বর আর গায়ে ফুসকুড়ি ওঠে। পরে হাসপাতালে নিয়ে আসলে ডাক্তার বলেন এটা হাম। এখন চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা ভালো আছে।”
কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন বলেন, সারাদেশে হামের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী নিয়মিতভাবে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় দলীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আমরা নিজেরাও নিয়মিত হাসপাতালে খোঁজখবর নিচ্ছি। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীরা নিজ নিজ এলাকায় জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছেন।”
এদিকে, হামের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় কোটালীপাড়ার সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি সকলকে সচেতন থাকার জন্য উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভার পক্ষ থেকেও আহ্বান জানানো হয়েছে।
Leave a Reply