1. modhumotikanthobd@gmail.com : Shohidul Islam : Shohidul Islam
  2. modhumotikantho@gmail.com : support : Shohidul Islam
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৩:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর হাত ধরে সেলিমুজ্জামান সেলিমের ঐক্যের বার্তা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জের ৩টি আসনেই বিএনপি জয়ী চাঁদা না পেয়ে লঞ্চঘাটের কাজ বন্ধের অভিযোগ চাঁদপুর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী মানিকের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে বিকট শব্দে ককটেল বিস্ফোরণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট- ২০২৬ উপলক্ষে গোপালগঞ্জ পুলিশ লাইনস্ মাঠে ব্রিফিং প্যারেড অনুষ্ঠিত ৪৯ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ফরিদগঞ্জে ছাত্রশিবিরের বর্ণাঢ্য র‍্যালি সকল ভেদাভেদ ভুলে উন্নয়নের স্বার্থে ধানের শীষে ভোট দিন গোপালগঞ্জে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত ইউজিসির প্রশিক্ষণে মেধা তালিকায় প্রথম হলেন গোবিপ্রবির মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ ফারুক গোপালগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সিপন ভূঁইয়াকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার অভিযোগ

দালালের মাধ্যমে লিবিয়ায় গিয়ে ৩ মাস নিখোঁজ মিরাজুল শেখ, মুক্তিপণের টাকা দিয়ে সর্বশান্ত পরিবার, ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

  • Update Time : মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২৪
  • ৩৫২ Time View

দালালের মাধ্যমে লিবিয়ায় গিয়ে ৩ মাস নিখোঁজ মিরাজুল শেখ, মুক্তিপণের টাকা দিয়ে সর্বশান্ত পরিবার, ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

কে এম সাইফুর রহমান, গোপালগঞ্জঃ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের মুনিরকান্দি গ্রামের শাজাহান শেখের ছেলে মিরাজুল শেখ (২৪) দালালের খপ্পরে পরে লিবিয়ায় গিয়ে প্রায় ৩ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। শুধু মিরাজুল শেখ নয় একাধিক পরিবারের সন্তানকে ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়াতে আটকে রেখে কোটি টাকার ওপরে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ গোহালা গ্রামের আবুল কালাম আজাদ, মোল্লাদি গ্রামের গিয়াস উদ্দিন মোল্লার ছেলে রুহুল আমিন মোল্লা’সহ তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

এঘটনায় আবুল কালাম আজাদ ও রুহুল আমিন মোল্লার বিরুদ্ধে নিখোঁজ মিরাজুল শেখের পিতা শাজাহান শেখ নিজে বাদী হয়ে মুকসুদপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন, মামলা নং ০৬ তারিখ -০৩/০২/২৪ ইং ধারা- ৭/৮/১০ মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২। এর আগে মুকসুদপুর উপজেলার সিন্ধিয়াঘাট পুলিশ ফাঁড়িতে ভুক্তভোগীর স্বজনেরা অভিযোগ করলে আবুল কালাম আজাদের সহযোগী রুহুল আমিন মোল্লাকে ফাঁড়িতে ডেকে নাম মাত্র সালিস করে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে তাকে ছেড়ে দেয় ফাঁড়ির ইনচার্জ (আইসি) এসআই শওকত হোসেন।

নিখোঁজ মিরাজুল শেখের মা রেবেকা বেগম বলেন, আমার ছেলে মিরাজুলকে ইতালি নেওয়ার কথা বলে আবুল কালাম আজাদ ও রুহুল আমিন মোল্লা আমাদের নিকট থেকে ১২ লক্ষ টাকা নেয়। পরে মিরাজুলকে মাফিয়াদের দিয়ে ধরিয়ে আরও ৭ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ আদায় বাবদ ডাচ্ বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে নেয়। মাফিয়াদের কাছ থেকে উদ্ধার হওয়ার পর আমার ছেলে তিন মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে। আমার ছেলে বেঁচে আছে? নাকি মারা গেছে? সে খবরও আমরা পাচ্ছিনা। তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করলেও তারা কিছুই বলে না। আমি আমার ছেলেকে জীবিত ফেরৎ পেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

নিখোঁজ মিরাজুলের বোন খাদিজা আক্তার বলেন, আমার ভাইকে লিবিয়া নিয়ে মাফিয়াদের কাছে তুলে দিয়ে তাকে মারপিট করে আমাদের কাছে সেই নির্যাতনের ভিডিও পাঠিয়ে টাকা দাবি করে। ভাইকে বাঁচানোর জন্য আমার বাপের জমি জমা বিক্রি ও সুদে ধার দেনা করে টাকা দেওয়ার পরে এখনও তিন মাস ধরে আমার ভাই নিখোঁজ রয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের নিকট আমার ভাইকে জীবিত ফেরৎ চাই ও দালালদের কঠিন বিচার দাবি করছি।

এদিকে সরেজমিনে অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদের বাড়িতে গেলে, উক্ত মামলায় তিনি জেল হাজতে রয়েছেন মর্মে তার পরিবার গণমাধ্যমকে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি। অপরদিকে, অভিযুক্ত রুহুল আমিন মোল্লার পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে মেইন ফটকে তালাবদ্ধ দেখা যায় এবং টেকেরহাট- গোপালগঞ্জ মহাসড়ক সংলগ্ন জলিড়পারের নতুন আলিশান বাড়িতে গিয়ে খুঁজে না পেয়ে তার মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে বর্তমানে ঢাকায় রয়েছি। ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এবিষয়ে গোহালা ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মাতুব্বর গভীর দুঃখ প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক, উন্নত জীবনের মিথ্যা প্রলোভনে মানুষকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর নামে জিম্মি করে যারা মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায় করে সর্বশান্ত করছে তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান নিশ্চিত করতে হবে।

মুকসুদপুর থানার ওসি (তদন্ত) শীতল চন্দ্র পাল বলেন, এ ঘটনায় আদালতের নির্দেশে মুকসুদপুর থানায় মানব পাচার দমন আইনে একটি মামলা রুজু হয়েছে এবং আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সাথে জরিত থাকা ও টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। অপর আসামি রুহুল আমিন মোল্লাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। ভিকটিম মিরাজুল শেখ এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021
Design & Developed By : Modhumoti Kantho