কোটালীপাড়ায় সাংবাদিক মনিরুজ্জামান জুয়েল -এর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে ভুক্তভোগী ঠিকাদারের সংবাদ সম্মেলন
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
কোটালীপাড়া উপজেলায় দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা ও দৈনিক বাংলা পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক মনিরুজ্জামান জুয়েল -এর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে কোটালীপাড়া উপজেলা রিপোর্টার্স ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মেসার্স জাকাউল্লাহ এন্টারপ্রাইজ লিঃ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ঠিকাদার মোঃ ইয়াছিন হোসেন। এ সময় তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে সাংবাদিকদের জানান,
আমাদের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসা গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সিকির বাজার — চিত্রাপাড়া এলাকায় এলজিইডি’র বাস্তবায়নে ১২৬৫ মিটারের সড়ক মেরামতের কাজ পান। পরবর্তীতে উক্ত কাজ চলাকালীন সময়ে স্থানীয় একজন সাংবাদিক আমার সাথে সাক্ষাৎ করে আমার নিকট অনৈতিকভাবে দেড় লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি তাদেরকে চাঁদার টাকা না দেওয়ায় তারা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে আমাকে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান এলজিইডিকে জড়িয়ে বিভিন্ন ভুলভাল তথ্যের ভিত্তিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এবং বিভিন্ন মিডিয়ায় সংবাদ প্রচার করে আমাদের সকলের মান সম্মান ক্ষুন্ন করেছে। মূলত উক্ত সড়কে পিচ-এর কাজ চলমান থাকা অবস্থায় ওই সকল স্বার্থান্বেষী সাংবাদিক স্থানীয় জনৈক এক নারীকে দিয়ে সরকারি রাস্তার পিচ তুলে তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও মিডিয়ায় প্রচার করে। আপনারা জেনে থাকবেন পিচ দিয়ে রাস্তা তৈরির পর নির্দিষ্ট সময় লাগে তা জমাট বাঁধতে কিন্তু তারা সেই সুযোগ না দিয়ে আমাকে, আমাদের প্রতিষ্ঠানকে ও সরকারি এলজিইডি দপ্তরকে সুনির্দিষ্টভাবে হেয়ও প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এহেন কর্মকান্ড করে। আপনারা সরেজমিনে গেলেই বিষয়টি দেখতে পারবেন। যদি সেদিকে কোন অনিয়ম পান বা কোন ত্রুটি বিচ্যুতি পান তাহলে আপনারা যে শাস্তি দিবেন আমি তা মাথা পেতে নিবো। যেহেতু এখনো রাস্তার কাজ শেষ হয় নি। আমি চুড়ান্ত বিল নেইনি। যদি কোন ত্রুটি বিচ্যুতি থাকে আমি তা অবশ্যই সমাধান করে দেবো।
মূলত মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও অসত্য তথ্যের ভিত্তিতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এ ধরনের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ও বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ করায় আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ সংক্রান্তে আমি ইতোমধ্যেই আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছি। আমি আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি। এর আগে সকালে কোটালীপাড়া উপজেলা প্রকৌশলীর এসও সহ অন্যান্য কর্মকর্তা এবং গোপালগঞ্জ জেলায় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত বিপুলসংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ওই সড়কের আশপাশে যাদের বাড়িঘর রয়েছে তাদের সাথে যোগাযোগ করেন। একাধিক স্থানীয় ব্যাক্তি জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত যে ঘটনাটি ঘটেছে তা আসলেই দুঃখজনক। কাজ করতে গেলে সমস্যা হতেই পারে, আমরা এলাকাবাসী বিষয়টি জানানোর সাথে সাথেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা সমাধান করে দিয়েছে এছাড়াও উপজেলা এলজিইডি অফিস থেকেও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারী এখানে এসেছেন এবং সমস্যার সমাধান করে দিয়েছেন। সাংবাদিকরা স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের নিকট কাজের গুণগতমান সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা সকলেই সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সরকারি রাস্তার পিচ ওভাবে তুলে ফেলা ঠিক হয়নি বলে জানান। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত ছিলো। যদি তারা সমাধান না করতো তাহলে সাংবাদিকদের জানানো উচিত ছিলো। কেননা এই সড়ক আমরাই ব্যবহার করবো। আর আমরা যদি জানতাম যে ওই সাংবাদিক ঠিকাদারের নিকট টাকা দাবি করেছে তা না পেয়ে সে এ কাজ করেছে তাহলে কখনোই এমনটি হতো না। যাই হোক ঘটনাটি যেন আর সামনের দিকে না এগোয় উভয়পক্ষ মিলেমিশে এর সুষ্ঠু সমাধান করুক এটাই আমরা চাই।
Leave a Reply