গোপালগঞ্জে দুই বছরের শিশু সাহারা ইসলামের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে পরিবারের সংবাদ সম্মেলন: আদালতের সহযোগিতায় লাশ উত্তোলন করে দ্রুত ময়নাতদন্তের দাবি
কে এম সাইফুর রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে দুই বছরের ফুটফুটে নিষ্পাপ শিশু সাহারা ইসলাম সারা’র মৃত্যুকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসছে।
এদিকে দীর্ঘ ৭ বছর পর সাগর খাকি ও মুক্তা বেগম দম্পতির ঘরে জন্ম নেওয়া নিষ্পাপ শিশু সাহারা ইসলাম সারা’কে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছেন মা-বাবা ও আশপাশের প্রতিবেশীরা। কিছুতেই ভুলতে পারছেন না ছোট্ট শিশুর সাথে জড়িয়ে থাকা নানা ধরনের সুখ-দুঃখের স্মৃতি।
সাহারা ইসলাম সারা’র মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের দাবি সাহারাকে গত আগস্ট মাসের ১১ তারিখে কে বা কারা? হত্যা করে বাড়ির পাশেই কচু ক্ষেতে লাশ ফেলে রেখে বিষয়টিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীদের দাবি সাহারা যদি কচু ক্ষেতে জমে থাকা সামান্য বৃষ্টির পানিতে ডুবে মারাই যাবে তাহলে তার শরীরে বুক, মুখ পেটে নাভির পাশে এতো আঘাতের চিহ্ন কেন? বিশেষ করে নাভির পাশে পোড়া ক্ষত চিহ্ন এলো কোত্থেকে? পেট ফুললো না কেন? বংশের মুরুব্বী নুরু খাকি/ বদর খাকি সহ অন্যান্যরা সারা’র লাশের ময়নাতদন্ত করতে দিলো না কেন? তার বাবাকে তার একমাত্র আদরের মেয়ের লাশ কেন দেখতে বা স্পর্শ করতে দিলো না তারা? তড়িঘড়ি করে কেন পোস্টমর্টেম ছাড়াই তারা লাশ দাফন করে দিলো? কাশিয়ানী উপজেলার ফুকরা বাজারের গ্রাম্য চিকিৎসক প্রশান্ত বাগচী প্রথমে বললো, এখানে আনার অনেক আগেই সারা’র মৃত্যু হয়েছে তবে পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়নি এবং শরীরে বিশেষ করে নাভির কাছে পোড়া ক্ষত চিহ্ন থাকার কথা স্বীকার করলেও পরবর্তীতে তিনি অজ্ঞাত কারণে সুর পাল্টে সাংবাদিকদের একেক সময় একেক কথা বলে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে কেন? সাংবাদিকদের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে বিষয়টি ভিন্ন খাতে ঘুরিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে কেন? আমরা না হয় একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর হয়ে গেছিলাম? কিন্তু যারা আমাদের বংশের মুরুব্বী ও গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তারা কেন আমাদেরকে ভালো বুদ্ধি দিলেন না? আমরা তাদের কি এমন ক্ষতি করেছি? যে এভাবে আমাদের একমাত্র কন্যা সন্তানকে নির্মমভাবে মেরে ফেললো খুনিরা? আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সম্মানিত বিচারক স্যারের নিকট ন্যায় বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনে আমার মেয়ের লাশ কবর থেকে দ্রুত উত্তোলন করে পোস্টমর্টেমের ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে নিহত শিশু সাহারা ইসলাম সারা’র মা মুক্তা বেগম ও খালা মিতা বেগম গত ৪ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জে দৈনিক বাস্তব ঘটনা পত্রিকার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সাংবাদিকদের বলেন, আমার মেয়ের স্বাভাবিক মৃত্যু হয়নি? আমার মেয়েকে খুনিরা পরিকল্পিতভাবে নির্মমভাবে হত্যা করেছে? আমার বড় ভাসুর উজ্জল খাকি আমার চাচাতো শ্বশুর শহর আলী খাকি, চাচাতো দেবর সোহেল খাকি এদের সাথে আমাদের পূর্ব বিরোধ রয়েছে। এছাড়া ঘটনার দিন সারা তার দাদুর ঘরে আম খাচ্ছিলো। তার চাচা উজ্জল খাকি এবং চাচি সারাকে ডেকে তাদের ঘরে নিয়ে যায়। পরে আমি তা নিশ্চিত হয়ে রান্নাবান্না শুরু করি। এক পর্যায়ে প্রতিবেশী মাজেদা বেগম চাচী শাশুড়ি আমার রান্নাঘরে এলে তার সাথে কথাবার্তা বলি। চাচি শাশুড়ি সারার কথা জানতে চাইলে আমি বলি তার বড় চাচা-চাচির ঘরে রয়েছে। পরে চাচি শাশুড়ি চলে যাওয়ার পরে আমার ভাসুর উজ্জল খাকি গায়ে প্রচুর ঘাম ছিলো, সে রান্না ঘরের পাশেই টিউবয়েলের পানি দিয়ে তড়িঘড়ি করে গোসল করে চলে যায়।
আমি আমার ভাসুরের স্ত্রী (জা) কে আমার মেয়ে কোথায় জানতে চাইলে সে বলে সারা ঘরে নেই। তখন আমি আমার ঘরে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। আমার মেয়ে আমার ঘরে গেলে বা তার চাচার ঘর থেকে বের হলে তো তার মাজায় বেঁধে দেওয়া ঝুনঝুনির আওয়াজ আমার কানে আসতো কিন্তু তা আসেনি। আমার ভাসুর উজ্জল খাকি রাগান্বিত কন্ঠে বলে তুমি আশেপাশে মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে খোঁজো। পরে আমি আশপাশে খোঁজাখুঁজি করতে থাকি। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাড়ির পাশেই কচু ক্ষেতে আমার মেয়েকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। পরে প্রথমে গ্রাম্য চিকিৎসক প্রশান্ত বাগচী’র নিকট নিয়ে গেলে তিনি বলেন যে, সারা আর বেঁচে নেই? অনেক আগেই সে মারা গেছে? তবে সে পানিতে পড়ে মারা যায়নি? তার শরীরে নাভির আশপাশে পোড়া ক্ষত চিহ্ন ছিলো? আপনারা হাসপাতালে নিলেও নিতে পারেন? এরপর তড়িঘড়ি করে তার লাশ দাফন করা হয়। এখানে আমাদের বংশের নুরু খাকি ও বদর খাকি সহ অন্যান্যরা ওর বাবা খবর শুনে ঢাকা থেকে গ্রামে ফিরে এলেও তারা মেয়ের লাশ ভালো করে দেখতে দেয়নি এবং ছুঁতেও দেয়নি। তড়িঘড়ি করে মাটি দিয়ে দেয়? আমাদের সন্দেহ আমাদের সাথে যাদের পূর্ব শত্রুতা রয়েছে তারাই আমাদের সাহারাকে নির্মমভাবে হত্যা করে পানিতে ডুবে মারা গেছে এমন নাটক সাজিয়েছে। আমরা মাননীয় বিচারক স্যারের নিকট কবর থেকে দ্রুত আমার মেয়ের লাশ উত্তোলন করে পোস্টমর্টেম করার জোর দাবি জানাচ্ছি। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এলে বোঝা যাবে যে, আমার মেয়েকে কে বা কারা খুন করেছে? আমরা আপনাদের (সাংবাদিকদের) নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি আপনারা আমাদেরকে এ বিষয়ে সহযোগিতা করুন। আমরা গরীব ও অসহায়। আপনারা আমাদের পাশে দাঁড়ান। ন্যায় বিচার পেতে আমাদেরকে সহায়তা করুন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত উজ্জল খাকি ও সোহেল খাকির বক্তব্য নিতে তাদের গ্রামের বাড়িতে গিয়েও দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও তাদের সাক্ষাৎ না পাওয়ায় তাদের কোন বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত গ্রাম্য চিকিৎসক প্রশান্ত বাগচী প্রথমে বলেন, সারাকে তার আত্মীয়-স্বজন তার ওখানে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এলে তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন অনেক আগেই সে মারা গেছে। তবে তার পেটে নাভির পাশে পোড়া ক্ষত চিহ্ন ছিলো বলে জানান তিনি। একপর্যায়ে তাকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয় আপনি কি কারোর মৃত্যু সম্পর্কে বলার অধিকার রাখেন? তখন তিনি কৌশল অবলম্বন করে একেক সময় একেক ধরনের কথাবার্তা বলে সাংবাদিকদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে।
Leave a Reply