গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে স্কুল চলাকালীন সময়ে এক শিশু শিক্ষার্থী ও তরুণকে গাছে বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতন, লজ্জায় শিক্ষার্থীর আত্মহননের চেষ্টা
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাহুথর উদয়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে গত মঙ্গলবার দুপুরে টিফিনের বিরতির সময়ে ৮ম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থী (১৩) ও তরুণকে (২১) গাছে বেঁধে প্রকাশ্যে নির্যাতনের একটি ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। পরে লজ্জা ও ঘৃণায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বুধবার (২৯ জুলাই) বিষপানে (কীটনাশক) আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন বলে স্থানীয় উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রকাশ্যে এমন ঘটনার ৪দিন পার হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা ও অভিভাবকদের। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা সৃষ্টি হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গল বার (২৮ জুলাই) ওই ছাত্রীকে বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে এবং তরুণকে তাঁর বাড়ি থেকে ডেকে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। আগের দিন তাঁদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়েছিলেন বলে অভিযুক্ত কয়েকজনের দাবি। পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি গাছের সঙ্গে মঙ্গলবার দুপুরে গামছা দিয়ে তাঁদের একসঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে তাঁদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া, অপমান ও মানসিক যন্ত্রণার কারণে ওই ছাত্রী বিষ পান (কীটনাশক ফোড়াডন পান) করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
বর্তমানে সে তার নানি বাড়িতে রয়েছেন।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রকাশ্যে এমন ঘটনার তিন দিন পার হলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় নয়ন বাড়ৈ, জয় শিকদার, মিশন রায় সহ আরো কয়েকজন জড়িত ছিলো বলে একাধিক সূত্রে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নয়ন বাড়ৈ’র ভাষ্য, ‘আপত্তিকর অবস্থায় ধরার পর এলাকার কয়েক যুবক আমার বাড়ির ওপর দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলো। আমি তাঁদের বিদ্যালয়ে নিয়ে অভিভাবকদের হাতে তুলে দিই। তবে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি আমার জানা নেই।’
স্থানীয় লোকজনের দাবি, নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়া, অপমান ও মানসিক যন্ত্রণার কারণে ওই ছাত্রী বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে স্বজনেরা উদ্ধার করে স্থানীয় রাহুথর উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জরুরী বিভাগে নিয়ে চিকিৎসা দেন।
এ বিষয়ে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রজিৎ সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, ঘটনার আগে আমি আনোয়ার স্যারকে দায়িত্ব দিয়ে বাহিরে আসি পরে বিষয়টি জানতে পেরে ম্যানেজিং কমিটিকে জানাই তারা রোববার এর উপযুক্ত বিচার দিবেন বলে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কাশিয়ানী অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আমাদের প্রতিনিধিকে জানান, বিষয়টি তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেনেছেন, গত মঙ্গলবারের ঘটনা, আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছেন বলেও জানান তিনি ।
Leave a Reply