মৌলভীপাড়াবাসী ডিজিটাল রেকর্ড পেতে যা কিছু করার প্রয়োজন আমি তা নিঃস্বার্থভাবে করবো___ডাঃ কে এম বাবর এমপি
কাজী সেলিম নয়ন, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জ জেলা শহরের মৌলভীপাড়াবাসী বিনা হয়রানি ও ভোগান্তি ছাড়াই যেন হাল নাগাদ জিটাল রেকর্ড পেতে পারেন তার জন্য যা কিছু করার প্রয়োজন, তা নিঃস্বার্থভাবে পূরণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন গোপালগঞ্জ -২ আসনের সংসদ সদস্য ও গরীবের ডাক্তার খ্যাত ডাঃ কে এম বাবর এমপি।
গোপালগঞ্জ মৌলভীপাড়াবাসীর আয়োজনে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫ টায় স্থানীয় শেখ ফজিলাতুন্নেছা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে আয়োজিত গোপালগঞ্জের ১০৬নং ঘোষেরচর মৌজার রেকর্ড সম্পর্কে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ কথা বলেন, এ সময় তিনি আরো বলেন, আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, আপনারা আমার উপদেষ্টা ও পরামর্শদাতা, ভালো কাজে যেমন আপনাদের সার্বিক সহযোগিতা চাই, মন্দ বা ভুল সিদ্ধান্তেও আমাকে আপনারা বারণ করবেন বা থামিয়ে দিবেন। এর আগে বিগত সরকার চাইলেই অনেক কিছু করতে পারতেন, সকলে জানেন গোপালগঞ্জ উন্নয়নের চাদরে মোড়ানো রয়েছে। কিন্তু বাস্তবিক পক্ষে উন্নয়নের বিন্দুমাত্র ছিটেফোঁটা পড়েনি। গোপালগঞ্জের হাসপাতালগুলো অনেক আগেই যন্ত্রপাতি এসেছে কিন্তু তা যথাযথভাবে ব্যবহার না করায় অধিকাংশ যন্ত্রপাতির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ১০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আইসিইউ বেড থাকলেও তা চালু না হওয়ায় ৯টি বেডই অকেজো হয়ে পড়েছে। গোপালগঞ্জ পৌরসভা আগে ছিল ১০ হাজার বর্গ মিটার এখন তা বেরিয়ে ৩০ হাজার বর্গমিটারে পৌঁছেছে অথচ পৌরবাসী রাস্তাঘাট, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সুপেয় পানি ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই আপনারা আগামী পৌরসভা নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে গোপালগঞ্জ পৌরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার সুযোগ দিবেন। যদি আপনারা কোন অসৎ, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ লোককে মেয়র পদে নির্বাচিত করেন তাহলে আমার সাথে মতের অমিলে উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাবে। প্রায় সাত মাস হয়েছে আপনারা আমাকে ভোট দিয়ে এমপি পদে নির্বাচিত করেছেন। আমি এমপি নির্বাচিত হয়ে উপজেলা পরিষদে যে সকল উন্নয়ন বরাদ্দ রয়েছে, আমি তা প্রত্যেকটি ইউনিয়নে সমানভাগে ভাগ করে দিয়েছি। এই গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে গত সপ্তাহে ছাত্র- শিক্ষক সমস্যা হয়েছিলো, আপনাদের দোয়ায় আমি সেই সমস্যার সমাধান করে দিয়েছি, ওই কলেজের উন্নয়নে প্রায় দেড়’শ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই মৌলভীপাড়ার দুটো সড়কের সংস্কার কাজ যা বর্তমানে চলমান রয়েছে। আগামী বাজেটে পৌরসভার নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে ন্যূনতম পাঁচটি নতুন পানির ট্যাংকি নির্মাণের প্রস্তাব থাকবে। যাতে পৌরবাসী আর সুপেয় পানির কষ্ট পোহাতে না হয়। মৌলভীপাড়ার ডিজিটাল রেকর্ড সম্পর্কে আমি পূর্বে অবগত ছিলাম না। এখন যখন জেনেছি যে, অতীতে আপনাদের সাথে এই রেকর্ড দেওয়ার নামে নানা ষড়যন্ত্র ও অনিয়ম করে আপনাদেরকে চরম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। যা সত্যি খুবই দুঃখজনক। আমি কথা দিচ্ছি ইনশাল্লাহ আপনাদেরকে সাথে নিয়ে ডিসি মহোদয়, সেটেলমেন্ট অফিসার সহ ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাননীয় ভূমি মন্ত্রী মহোদয়ের নিকট দৌড়ঝাপ করবো যাতে আপনারা আপনাদের প্রাপ্য রেকর্ড বিনা হয়রানিতে বুঝে পান। আগামীকাল রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটির নেতৃবৃন্দ সহ আমি এ বিষয়ে ডিসি মহোদয়ের সাথে কথা বলবো। এরপর এখানের কাজ শেষ হলে প্রয়োজনে ঢাকায় ভূমি মন্ত্রণালয় যাবো।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রফিকুজ্জামান ও গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সদস্য, জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌশুলী (জিপি) অ্যাডভোকেট এম এ আলম সেলিম।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াতের পর আমন্ত্রিত অতিথিদেরকে মৌলভীপাড়াবাসীর পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
এরপর মৌলভীপাড়ার অতীত ইতিহাস তুলে ধরেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ও মৌলভীপাড়ার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট এম এ আলম সেলিম।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক সোবহান আলী সরদারের সভাপতিত্বে উক্ত আলোচনা সভায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব ফজলুল কবির দারা, জেলা যুবদলের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন লিপ্টন, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান পলাশ, উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানুল বান্না, সাবেক কাউন্সিলর আব্দুর রউফ মোল্লা, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী রেফাউল মোল্লা সহ মৌলভীপাড়া সহ আশপাশের প্রায় সহস্রাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply