কোটালীপাড়ায় দলীয় নেতাকর্মীদের নাম ভাঙিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের নাম ব্যবহার করে দুস্থ অসহায় পরিবারের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ক্ষমতাধর নারীর বিরুদ্ধে।
ওই নারী বিভিন্ন সময়ে নিজেকে অনেক বড় মাপের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন।
দুস্থ ও অসহায় পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে এ ধরনের টাকা হাতানোর বিষয়ে এলাকায় ও ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন নেতা কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে কোটালীপাড়া উপজেলার শুয়াগ্রাম ইউনিয়নের অমল বৈদ্যের স্ত্রী নমিতা বৈদ্যের মাধ্যমে।
নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে সরেজমিন ঘুরে ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কোটালীপাড়া উপজেলার শুয়াগ্রাম ইউনিয়নের অমল বৈদ্যের স্ত্রী নমিতা বৈদ্য একই গ্রামের প্রায় ১৫-২০ জন লোকের থেকে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, রেশন কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার নাম করে, বিভিন্ন সময়ে অসহায় মহিলাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে নমিতা বৈদ্য।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে তিনি কোন ক্ষমতাসীন দলের ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটিতে তার কোন নাম নেই।
ভুক্তভোগী মহিলারা হলেন, মমতা বৈদ্য, রাখি হালদার, অনিমা বৈদ্য, মিঠু বৈদ্য, কমলা বৈদ্য, তৃপ্তি বৈদ্য, প্রভাতী, জবা, বিভা ও বিউটি সহ প্রায় ২০ জনের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে নমিতা বৈদ্য।
নাম প্রকাাশ না করার শর্থে একজন জানান, এছাড়াও অগনিত লোকের কাছ থেকে বিভিন্ন কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়েছে নমিতা। অথচ এখন পর্যন্ত কাউকে একটি কার্ডও দিতে পারেনি নমিতা।
মহিলা অনেক রাগী ও ক্ষিপ্র প্রকৃতির হওয়ার কারনে ওনার কাছে কেহ টাকা ফেরত চাইতে সাহস করেনা। সেই সাথে ওনার ছেলে একজন বড় লাঠিয়াল।
কেহ যদি টাকা চাইতে যায় তাহলে তাকে বেফাঁস ভাষায় গালাগাল করে তাড়িয়ে দেয়। আর বলে মাত্র অল্প কিছু টাকা দিয়েছিস কার্ড যখন আসবে তখন পাবি। এছাড়া আমার বাড়ীর কাছে আসবিনা। এমনকি তার ছেলে অনুপ বৈদ্যকে লেলিয়ে দিয়ে মারধরের করার ভয় দেখায় নমিতা বৈদ্য।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহিলা নমিতা বলেন, আমাকে এই ইউনিয়নের দায়িত্ব দিয়েছে তাই আমি সবার সাথে কথা বলে এই টাকা তুলেছি। এ সময় তিনি উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন হেভি ওয়েট নেতা কর্মীদের নামও বলেন।
এ বিষয়ে উপজেলার শুয়াগ্রাম ইউনিয়নের বিএনপির সভাপতি বিধান ডাক্তারের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমি কোন কিছুই জানতাম না। যদি সে এ ধরনের কাজের জন্য টাকা তুলে থাকে তবে সেটা অন্যায়, আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।
Leave a Reply