গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অসংখ্য অবৈধ বালুর চাতাল গড়ে প্রশাসনের নাকের ডগায় ব্যবসা করলেও দেখার কেউ নাই
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
জেলার গোপালগঞ্জ-টেকেরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে অসংখ্য বালুর চাতাল গড়ে উঠেছে। এসব চাতালে বালু ব্যবসায়ীরা সরকারি কোনো বিধি নিষেধ মানছেনা। যে যেভাবে পারে সে ওই আঞ্চলিক মহাসড়কের উপর এবং পেছনের দিকে সরকারি আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘরবাড়ির মধ্যে বালু রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছে। পার্শ্ববর্তী এমবিআর চ্যানেলে বাল্কহেডে করে বালু এনে আনলোড করার সময় আশ্রয়ন প্রকল্পের বাড়ীগুলির ভেতর দিয়ে ট্রাক,নসিমন ইত্যাদি চলাচল করায় এবং বাতাসের কারনে চাতালের বালু উড়ে আসায় অনেকে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর ছেড়ে চলে গেছে। আশ্রয়ন প্রকল্পের অনেক নিবাসীকে জোরপূর্বক তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দারা বারবার অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জেলার মুকসুদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমবিআর চ্যানেল পাড়ের আশ্রয়ন প্রকল্পের কয়েকজন বাসিন্দা বলেন,সরকার আমাদের এখানে এনে জমি ও বাড়ী দিয়েছে। কিন্তু অবৈধ বালু চাতাল ব্যবসায়ীদের কারনে স্ত্রী, কন্যা ও পরিবার নিয়ে বসবাস করা দুরহ হয়ে পড়েছে। তারা আমাদের স্বাভাবিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। একেতো বালুর যন্ত্রণা তার উপর বালু ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের উৎপাত ও হয়রানী সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এসব অবৈধ বালু ব্যবসায়ীরা সরকারি কর্তৃপক্ষকে কেয়ার করে বলে মনে হয় না। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে বালু ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা আশ্রয়ন প্রকল্পের মহিলাদের সাথেও অসদাচরণ করে থাকে। তবে প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীদের কার্যক্রমের প্রতিবাদ করতে কেউ সাহস পায় না। তাদের খুটির জোর কোথায় তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার অবৈধ বালু ব্যবসায়ী রবিউল শেখ তাজকিয়া ট্রেডার্স নাম দিয়ে একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে একাধিক বালু চাতাল গড়ে তুলেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা এখান থেকে চলে যান। আমাদের কাছে কাগজপত্র আছে। তবে তা আপনাদের দেখার কোনো এখতিয়ার নাই। আমরা সব কিছু মেইনটেইন করেই ব্যবসা পরিচালনা করি। স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে গোহালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মাতুব্বর প্রত্যেক বালু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে একলাখ টাকা করে নিয়ে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের ব্যবহার করে অত্র এলাকায় বালু ব্যবসা পরিচালনার একধরনের কাগজ যোগাড় করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে। সূত্রটি আরও জানায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় বালুর চাতাল গড়ে ব্যবসা করতে দেয়ার এখতিয়ার উপজেলা প্রশাসনের নেই। সেকারনে মহাসড়কের এবং আশ্রয়ন প্রকল্পের জায়গা নির্দিষ্ট থাকায় বালু ব্যবসায়ীদের ব্যবসা পরিচালনা করতে দেয়ার জন্য সরকারের কোনো বিভাগের জায়গা লীজ প্রদানের সুযোগ নেই।
মুকসুদপুর উপজেলার গোহালা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মাতুব্বর বলেন,এসব বালু ব্যবসায়ীদের দাপট চরমে উঠেছে। প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে অবৈধভাবে মহাসড়কের উপর বালু,ইট,খোয়া ইত্যাদি রেখে ব্যবসা পরিচালনা করছে। সড়ক বিভাগ বা উপজেলা প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করে না। আমি কোনো বালু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি কাগজ করে দেয়ার কথা বলে।
মুকসুদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভুমি) আবিরুল ইসলাম বলেন এসব বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সরকারি বিধিমালা ভংগ করা,মহাসড়কে বালু রেখে ব্যবসা পরিচালনা করা এবং আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দাদের হয়রানি,নির্যাতন বা তাদের স্বাভাবিক বসবাস ব্যাহত করার ব্যাপারে একাধিকবার অভিযোগ পেয়েছি। তবে প্রশ্রয় পেয়ে তারা এ যাবৎ এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে প্রভাবশালীদের মদদ রয়েছে। আমার একার পক্ষে এসব বন্ধ করা সম্ভব নয়। অবৈধ বালু ব্যবসা বন্ধ করতে হলে উপর মহলের সহায়তা আমার প্রয়োজন।
গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন,আমি এখানে নতুন এসেছি। এসব বিষয় আমার জানা ছিলোনা। তবে এটা ঠিক যে মহাসড়ক থেকে কমপক্ষে ত্রিশ ফুট দুরে যেকোনো ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে। তানাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ রয়েছে। আমি শীঘ্রই খতিয়ে দেখে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।
Leave a Reply