মুকসুদপুরে জমি সংক্রান্তে বিরোধ, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে জমি সংক্রান্তে বিরোধের জেরে একটি পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যাওয়া এবং বসতঘর ও গোয়ালঘর ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ সময় হামলাকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে একটি গাভী ও বাছুর নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এ ঘটনায় মুকসুদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ভুক্তভোগীর পরিবার।
গত ৮ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে মুকসুদপুর উপজেলার কঠুরাকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারী সোহেল শেখের দাবি, জমির ভোগদখল নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালিয়ে এসব ঘটনা ঘটিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জমির ভোগদখল নিয়ে সোহেল শেখের পরিবারের সঙ্গে একই এলাকার কয়েকজনের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের ভোগদখলীয় বসতবাড়ির জমিতে প্রবেশ করে মাটি কেটে রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ সময় সোহেল শেখ ও তাঁর চাচা দৌলত শেখ ঘটনাস্থলে গিয়ে এর কারণ জানতে চাইলে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
সোহেল শেখের অভিযোগ, হামলার সময় টনিক শেখ নামের এক ব্যক্তি ধারালো রামদা দিয়ে তাঁর চাচা দৌলত শেখের মাথার বাম পাশে কোপ দেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। চাচাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সোহেল শেখকেও মারধর করা হয়। এ সময় তাঁর বৃদ্ধ মা রহিমা বেগম ও বোন রিপা আক্তার এগিয়ে এলে তাঁরাও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে সোহেল শেখ উল্লেখ করেন, ঘটনার সময় তাঁর মায়ের গলায় থাকা আনুমানিক ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন এবং বোনের গলায় থাকা ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের আরেকটি চেইন নিয়ে যায়। এ ছাড়া বসতঘরের সুকেসের ড্রয়ারের তালা ভেঙে ইতালি যাওয়ার জন্য জমানো ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং তাঁর ভাগনির আনুমানিক ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া গোয়ালঘর থেকে আনুমানিক ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের একটি লাল রঙের গাভি ও একটি বাছুর নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন সোহেল শেখ। অভিযোগে আরো বলা হয়, বসত ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ও দুটি থাই গ্লাসের জানালা ভাঙচুর করা হয়েছে। এতে আনুমানিক ৪০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি গোয়ালঘর ভাঙচুরে আরো ১০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাদেরকে খুন করে লাশ গুম করার হুমকি প্রদান করারও অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁদের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় গুরুতর আহত দৌলত শেখকে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
পরে এ ঘটনায় ওমর শেখ, মিনা বেগম ও সুখি বেগমসহ কয়েকজনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করে মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সোহেল শেখ।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত লুৎফর শেখ (৪৮) এর ব্যবহৃত ০১৭…..৪৪ নম্বরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন সাংবাদিকদের বলেন, “ঘটনার বিষয়ে একটি অভিযোগ হয়েছে। এলাকার গণ্যমান্য মুরব্বিরা বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে সমাধানের কথা বলেছেন এবং আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। এ কারণে আমরা এখনো মামলা গ্রহণ করিনি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাঁরা সঠিক সমাধান না দিলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
Leave a Reply