মুকসুদপুরে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হলো জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ
আশিকুর রহমান মুন্সি ঃ
“পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো বাংলাদেশ” এই প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে সপ্তাহব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ।
সচেতনতা সৃষ্টি, স্বাস্থ্যবিষয়ক আলোচনা এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত নানা কর্মসূচির সফল সমাপ্তি ঘটে সমাপনী আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল ২০২৬) মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে স্বাস্থ্য কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয় এ সমাপনী অনুষ্ঠান।
সকাল থেকেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষক, সাংবাদিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির। আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রায়হান ইসলাম শোভন, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ভীষ্ম মণ্ডল, ডা. সোহরাব হোসেন কোবাদ মিয়া, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছালাম খান, সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম রাজু, মুকসুদপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও জাতীয় সাপ্তাহিক মধুমতি কণ্ঠ পত্রিকার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডা. মানস ভট্টাচার্য।
বক্তারা বলেন, একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে পুষ্টির কোনো বিকল্প নেই। বিশেষ করে শিশু, কিশোর-কিশোরী ও মায়েদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে পরিবার ও সমাজের সবাইকে সচেতন হতে হবে। তারা আরও বলেন, অপুষ্টি শুধু শারীরিক ক্ষতিই নয়, এটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নেও বাধা সৃষ্টি করে। তাই পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধা, প্রবীণ ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, মুকসুদপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আবুল বাসার টুল্টু বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মিন্টুসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সপ্তাহব্যাপী আয়োজনে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন, রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। পুরস্কার পেয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের হাসি, যা পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
স্থানীয়দের মতে, এমন আয়োজন শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং সাধারণ মানুষের মাঝে পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে একটি সুস্থ, সচেতন ও পুষ্টিসমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
#
Leave a Reply