1. modhumotikanthobd@gmail.com : Shohidul Islam : Shohidul Islam
  2. modhumotikantho@gmail.com : support : Shohidul Islam
বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গোপালগঞ্জে বাবাকে হত্যার দায়ে ছেলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড মুকসুদপুরের বরইতলায় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানালেন হাজারো নেতাকর্মী গোপালগঞ্জে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ পালিত গোপালগঞ্জে টিসিবি’র লাইসেন্স নবায়নের দাবিতে ডিলারদের মানববন্ধন ও ক্ষোভ প্রকাশ গোপালগঞ্জে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ পালিত আমরা সকলে মিলে একটি সুন্দর মুকসুদপুর গড়ে তুলবো: এমপি সেলিমুজ্জামান বাইউস্ট- এর কোয়ালিটি অ্যাশিউরেন্স কমিটির প্রথম সভা অনুষ্ঠিত কোটালীপাড়ায় সাংবাদিক মনিরুজ্জামান জুয়েল -এর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে ভুক্তভোগী ঠিকাদারের সংবাদ সম্মেলন গোপালগঞ্জ পৌরসভার ২০২৬ – ২৭ অর্থবছরে ৭৫ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা শিক্ষায় বিনিয়োগই দেশের ভবিষ্যৎ গড়ার সবচেয়ে কার্যকর উপায় -এমপি সেলিমুজ্জামান

বরিশালের শিল্পায়নের প্রধান বাঁধা বামপন্থী শ্রমিক আন্দোলন

  • Update Time : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১১৫ Time View

বরিশালের শিল্পায়নের প্রধান বাঁধা বামপন্থী শ্রমিক আন্দোলন

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট ছাড়াও বরিশালে এখন শিল্পায়নের বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বামপন্থী শ্রমিক আন্দোলন।

যোগাযোগ ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন হলেও বরিশালে গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট প্রাচীন যুগ থেকেই ছিলো। এর সঙ্গে এখন যুক্ত হয়েছে বামপন্থী শ্রমিক আন্দোলন। শহরের কিছু রিক্সা শ্রমিক, স্থানীয় শিল্প কারখানা শ্রমিকদের সঙ্গে মিলে কথায় কথায় শিল্প কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। শিল্প মালিকেরা তাদের কাছে অসহায়। অনেকটা জিম্মি ও বটে। মনীষা চক্রবর্তী নামে এক বামপন্থী নারী নেত্রী এদের মদদ দিয়ে আসছেন।
শহরের ছোট বড় সকল মিলকারখানায় পান থেকে চুন খসলেই তিনি এসব শ্রমিকদের নিয়ে এসে মিলে তালা লাগিয়ে দেন, মালিকদের জিম্মি করেন এবং উৎপাদন বন্ধ রাখেন। শ্রমিকরাও এই সুযোগে তাদের যৌক্তিক অযৌক্তিক সকল ধরনের দাবি আদায় করে নেন।
এদের এই উৎপাতের কারণে বরিশালের শতাধিক মিলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এমনিতেও বরিশালে বড় কোন মিল কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। হাতেগোনা যে কয়টি হয়েছে তার মধ্যে বেঙ্গল বিস্কুট, সোনারগাঁও টেক্সটাইল লিমিটেড, খানসন্স টেক্সটাইল লিমিটেড, অলিম্পিক সিমেন্ট লিমিটেড এবং অপসোনিন ফার্মা অন্যতম।
শ্রমিকদের এই অপতৎপরতার কারণে বেঙ্গল বিস্কুট ফ্যাক্টরি ইতিমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে। সোনারগাঁও টেক্সটাইল লিমিটেড বন্ধ হবার পথে। শ্রমিকদের উৎপাতের কারণে অপসোনিন ফার্মা এখন বরিশাল থেকে তাদের ফ্যাক্টরি ঢাকায় সরিয়ে নিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই অপসোনিন ঢাকার কেরানীগঞ্জে তাদের একটি কারখানা সরিয়ে নিয়েছেন। সোনারগাঁও টেক্সটাইল মিলে মনীষা চক্রবর্তী ও তার শ্রমিকদের কারণে বহুবার উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়েছিলো। এতে জেলার প্রায় ৫,০০০ শ্রমিক তাদের চাকুরী হারিয়েছেন। আরো আড়াইহাজার চাকুরি হারানোর পথে। সোনারগাঁও টেক্সটাইল লিমিটেড এর মালিক কর্তৃপক্ষ দেউলিয়া হওয়ার পথে। একে তো দেশীয় সুতার চাহিদা কমে যাওয়ায় একদিকে যেমনি তারা বাজার হারিয়েছেন অন্যদিকে গ্যাস বিদ্যুৎ না থাকায় অতি উচ্চ মূল্যে শুধুমাত্র বিদ্যুৎ দিয়ে উৎপাদন করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুন হয়ে যাচ্ছে। তারপরেও মিল কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে কারখানা টিকিয়ে রেখেছেন। কিন্তু তাদের এই মরার ওপর খরার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে শ্রমিক আন্দোলন। মিলের শ্রমিকরা বহিরাগতদের সঙ্গে মিলে মনীষা চক্রবর্তীর কুপরামর্শে কারখানায় তালা লাগিয়ে দিয়েছেন।সম্প্রতি মিলের দুইজন শ্রমিক জঘন্যতম অপরাধ করায় তাদেরকে চাকুরীচ্যুত করা হয় কিন্তু মনীষা চক্রবর্তীর নেতৃত্বে শহরের কিছু বহিরাগত শ্রমিক কারখানায় তালা লাগিয়ে দেয়। তারা মিলের দুইজন কর্মকর্তাকে পাঁচদিন ধরে তালাবদ্ধ করে রেখেছে। খাবারের অভাবে উক্ত কর্মকর্তারা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে জানা গেছে। মালিক কর্তৃপক্ষ আমাদের প্রতিনিধিকে জানান তারা আমার ফ্যাক্টরি জ্বালিয়ে দিক তবুও আমি অন্যায় আবদারের কাছে আর নতি স্বীকার করবো না। গত ২৫-৩০ বছর তাদের বহু অন্যায় আবদার সহ্য করেছি, আর না। আমরা হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে কিছুই পাইনি বরং নিঃস্ব হয়ে গেছি।

উল্লেখ্য বরিশাল বিসিক শিল্পনগরী এলাকায় প্রতিষ্ঠিত কারখানাগুলির বেশির ভাগই এখন প্রায় বন্ধ।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্র জানায় মনীষা চক্রবর্তী ও তার বাহিনীর হাতে গোটা বরিশালের শিল্প কারখানা বর্তমানে জিম্মি হয়ে পড়েছে। তারা অবিলম্বেই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন।
বরিশাল মেট্রোপলিটন চেম্বারের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মির্জা মোজাম্মেল হোসেন জানান, শ্রমিক আন্দোলনের কারণে আমরা এখন মিল কারখানা করতে ভয় পাচ্ছি। তাই বিনিয়োগ বরিশালে না করে ঢাকায় বা অন্যত্র করছি।

যোগাযোগ করা হলে বরিশাল জেলা সমিতির সভাপতি ও বিশ্ব ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডক্টর এনায়েত করিম বলেন, শ্রমিক অসহযোগিতার কারণে বাংলাদেশের বহু কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে বিশ্ব ব্যাংকসহ বহু দাতা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তিনি সরকারকে এ বিষয়ে কঠোর হওয়ার পরামর্শ দেন।

একটি গোয়েন্দা সংস্থা সূত্র জানায়, মনীষা চক্রবর্তী ভারতীয় আদিপত্যবাদী মদদ দাতা ও গুপ্তচর। তাকে ব্যবহার করে ভারত দক্ষিন অঞ্চলে শিল্পায়ন ও ব্যবসা-বাণিজ্য দমিয়ে রাখতে চায় যাতে বাংলাদেশের অর্থনীতি সামনের দিকে এগোতে না পারে। গোয়েন্দা সূত্র আরো জানায়, মনীষা চক্রবর্তীর ব্যাপারে সরকারের উচ্চ মহলে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পেলে অচিরেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, মনীষা চক্রবর্তী প্রতিবারই জাতীয় সংসদ ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে জামানাত হারান। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মনীষা চক্রবর্তীকে বেশ কয়েকবার ফোন করলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার কোন বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শওকত আজিজ রুবেল বলেন, এসব অপশক্তির কারণেই বাংলাদেশের জেলা শহরগুলোতে কোন শিল্পকারখানা গড়ে উঠছে না। তিনি অবিলম্বে সরকারের কাছে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021
Design & Developed By : Modhumoti Kantho