গোপালগঞ্জের ৩টি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত: প্রতীক পেলেন ২৭ জন
কে এম সাইফুর রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধি,
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬ ও গণভোট উপলক্ষে গোপালগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে ২১৫ গোপালগঞ্জ-১, ২১৬ গোপালগঞ্জ -২ ও ২১৭ গোপালগঞ্জ-৩ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) গোপালগঞ্জ জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আরিফ-উজ-জামান – তাঁর কার্যালয়ে তিন দফায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের হাতে এই প্রতীক তুলে দেন। প্রতীক বরাদ্দের মধ্যদিয়ে জেলা জুড়ে শুরু হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা। জেলায় ৩টি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১০,৯২,৬১৮ জন। তন্মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫,৫৫,২২৮ জন, নারী ভোটার ৫,৩৭,৩২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৫ জন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি তিনটি আসনের মোট ৩৯৭টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
গোপালগঞ্জ – ০১ (মুকসুদপুর উপজেলা – কাশিয়ানী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত) এ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী মোঃ সেলিমুজ্জামান মোল্যা (ধানের শীষ), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী মুহাম্মদ আবদুল হামীদ মোল্লা (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলনের মিজানুর রহমান (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির সুলতান জামান খান (লাঙ্গল)। এবং সিপিবি’র নীরদ বরন মজুমদার (কাস্তে)। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী আশ্রাফুল আলম (ফুটবল), এম. আনিসুল ইসলাম (ঘোড়া) এবং কাইউম আলী খান কলস।
গোপালগঞ্জ – ০২ (গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা – কাশিয়ানী উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত) এ আসনে প্রার্থীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, মোট ১১ জন। এর মধ্যে দলীয় প্রার্থী বিএনপির কে এম বাবর (ধানের শীষ), খেলাফত মজলিসের শুয়াইব ইবরাহীম (রিক্সা), ইসলামী আন্দোলনের তসলিম শিকদার (হাতপাখা), জাতীয় পার্টির রিয়াজ সারোয়ার মোল্যা (লাঙ্গল), জাকের পার্টির মাহমুদ হাসান (গোলাপ ফুল),
গণঅধিকার পরিষদের দ্বীন মোহাম্মদ (ট্রাক) এবং গণফোরামের শাহ মফিজ (উদীয়মান সূর্য)। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান ভূইয়া (টেলিফোন), এম. এইচ খান মনজু (হরিণ), মো: সিরাজুল ইসলাম সিরাজ (টেবিল ঘড়ি) ও।উৎপল বিশ্বাস (ফুটবল)।
গোপালগঞ্জ – ০৩ (কোটালীপাড়া উপজেলা-টুঙ্গিপাড়া উপজেলা)
এ আসনে মোট ৮ জন প্রার্থী লড়ছেন। দলীয় প্রার্থী- বিএনপির এস. এম. জিলানী (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলনের মারুফ শেখ (হাতপাখা), খেলাফত মজলিসের আঃ আজিজ (রিক্সা) এনপিপি’র শেখ সালাউদ্দিন (আম), গণফোরামের দুলাল চন্দ্র বিশ্বাস (উদীয়মান সূর্য) এবং গণঅধিকার পরিষদের আবুল বসার (ট্রাক)। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ হাবিবুর রহমান (ফুটবল) এবং গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক (ঘোড়া)।
প্রতীক বরাদ্দ শেষে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। প্রচারণার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাশত করা হবে না।”
এ সময় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) মোঃ আশ্রাফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম তারেক সুলতান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ফারিহা তানজিন, জেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ অলিউল ইসলাম, সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৌশিক আহমেদ সহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাগণ, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের মনোনীত প্রতিনিধি সহ জেলায় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রতীক পাওয়ার পর পরই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা তাঁদের সমর্থকদের নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় সীমিত পরিসরে প্রচারণা শুরু করেছেন।
এদিকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলায় সেনাবাহিনী সহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা ছিলো চোখে পড়ার মতো।
এর আগে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোঃ আরিফ-উজ-জামান, জেলা পুলিশ সুপার মোঃ হাবীবুল্লাহ, জেলার অস্থায়ী সেনা ক্যাম্প কমান্ডার (১৯ ই বেঙ্গল) লে. কর্নেল জেড এম মাবরুকূল ইসলাম, পিএসসি, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ অলিউল ইসলাম, মেজর জুভিন ওয়াহিদ সহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তাগণ জেলার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।
Leave a Reply