শেয়ারবাজারে ফিরছে না আশার আলো
নাহিদা হাসান দীপা,
রংপুর শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগকারীর আস্থা ফেরেনি। সূচক ও লেনদেনের পরিসংখ্যানে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে, বাজারে যে পুনরুদ্ধারের আলো আশা করা হয়েছিল তা এখনও দৃশ্যমান হয়নি। ডিএসই ও সিএসইতে সূচক কিছুটা ওঠানামা করলেও টেকসই উত্থান নেই, ফলে বাজারে এখনও অস্থিরতা বিরাজ করছে।
গত ২০ জানুয়ারি ২০২৬-এ ডিএসইর লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৬৬৯ কোটি টাকায়। এটি সাম্প্রতিক সময়ে তুলনামূলকভাবে বেশি হলেও, বাজারের দীর্ঘমেয়াদি টার্নওভারের তুলনায় তা খুবই কম। এর আগের কয়েক মাসে লেনদেন ৩০০ থেকে ৪০০ কোটি টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে, যা বাজারে নির্বিক অবস্থার পরিচায়ক হিসেবে ধরা হচ্ছে। বিশেষ করে গত ৭ ডিসেম্বর ২০২৫-এ ডিএসইর লেনদেন ছিল মাত্র ২৬৮ কোটি টাকা, যা ছয় মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম লেনদেন হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ, বিনিয়োগকারীরা বাজারে নামছেন, কিন্তু আস্থার সঙ্গে শেয়ার কেনা-বেচা হচ্ছে না।
ডিবিএ আয়োজিত এক আলোচনাসভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর আক্ষেপ করে বলেন, বাংলাদেশের শেয়ার বাজারের কথা উঠলেই-বাজার তলানিতে, কারসাজি, দরপতন, আস্থাহীনতা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদারকির অভাব ইত্যাদির মতো নেতিবাচক শব্দ ছাড়া ভালো কিছু শোনা যায় না। ঐ আলোচনাসভায় দেশের অন্যতম প্রধান ব্রোকারেজ হাউজ আইডিএলসি সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুদ্দিন বলেন, গত ১৬ বছরে শেয়ার বাজার প্রায় ৩৭ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে শেয়ারবাজারের অবস্থা আরও খারাপ ছিল। ওই সময় DSEX সূচক বড় ধরনের পতন দেখায়, যা বাজারের দীর্ঘমেয়াদি আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালে পুঁজিবাজারে বড় ধরনের পতনের পর থেকে বিনিয়োগকারীরা অনেকটা নিরাশ। তারা এখন নতুন বিনিয়োগে খুবই সতর্ক এবং আগের মতো ঝুঁকি নিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে আইপিও (IPO) এবং নতুন কোম্পানির শেয়ার লঞ্চও প্রায় স্থবির পর্যায়ে চলে গেছে, যা বাজারের তরলতা কমিয়ে দিচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ হলো আস্থা ও নীতিগত অনিশ্চয়তা। নিয়মিতভাবে বাজারে কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ হলেও, বিনিয়োগকারীরা সেটাকে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করছে না। এছাড়া মার্জিন লোনের মতো নীতিগত পরিবর্তন ও ঝুঁকিপূর্ণ নীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বাজারে বড় বিনিয়োগ আসছে না। একই সাথে বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও বাজার থেকে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। এর ফলে বাজারের মূলধন ও তরলতা কমে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, পুঁজিবাজারে স্থিতিশীলতা আনতে হলে টেকসই নীতিমালা, পুঁজিবাজারের নিয়মাবলি সহজীকরণ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও নিয়ন্ত্রকের মধ্যে সমন্বয়, এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য নিয়মিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। তবেই নতুন বিনিয়োগকারীরা বাজারে ফিরে আসবে এবং শেয়ারবাজারে ‘আশার আলো’ পুনরায় জ্বলে উঠবে।
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর।
Leave a Reply