গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদে প্রশাসক হিসেবে বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রফিকুজ্জামানের বর্ণাঢ্য অভিষেক ও সংবর্ধনা
কে এম সাইফুর রহমান, গোপালগঞ্জ:
ঐতিহ্যবাহী গোপালগঞ্জ জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও গোপীনাথপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রফিকুজ্জামান।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) জেলা পরিষদ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাকে এই সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। ১৮৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের অন্যতম প্রাচীন এই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের মনোনীত প্রতিনিধি হিসেবে তিনি এই দায়িত্বভার গ্রহণ করেন।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেব নাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম তারেক সুলতান, গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কৌশিক আহমেদ, গোপালগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. এহসানুল হক ও গোপালগঞ্জ কোর্ট জামে মসজিদ ও মাদ্রাসার ইমাম ও খতিব মাওলানা মুফতি মো. হাফিজুর রহমান।
গোপালগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন হিরা ও জেলা পরিষদের সুজন মজুমদারের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সিকদার শহিদুল ইসলাম লেলিন, কাশিয়ানী উপজেলা সভাপতি গোলাম মোস্তফা, মুকসুদপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছালাম খান এবং সাধারণ সম্পাদক তারেকুল ইসলাম রাজু, কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বশার এবং টুঙ্গিপাড়া পৌর সাধারণ সম্পাদক খলিলুল ইসলাম সহ আরো অনেকে।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা জেলা পরিষদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে নতুন প্রশাসকের নেতৃত্বে জেলার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, গোপালগঞ্জ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলা বিএনপি’র অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নবনিযুক্ত প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা শরীফ রফিকুজ্জামান উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমাকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে মনোনীত করায় আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। জেলা পরিষদ একটি প্রাচীন ও সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এবং দলের একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। দল-মত নির্বিশেষে গোপালগঞ্জ জেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের দোড়গোড়ায় সেবা পৌঁছে দেয়াই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। এ কাজে আমি জেলার প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীসহ সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করি।”
অনুষ্ঠানে সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বীর মুক্তিযোদ্ধাগন, জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, সাধারণ জনগণ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত থেকে নবনিযুক্ত প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।
Leave a Reply