গোপালগঞ্জে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
কে এম সাইফুর রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে গোপালগঞ্জে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে স্থানীয় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘অগ্নিবীণা শিল্প ও সাহিত্য সংসদ’ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করে। কর্মসূচির শুরুতে একুশের প্রথম প্রহরে সংগঠনের পক্ষ থেকে গোপালগঞ্জ পৌর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংগঠনের কার্যালয়ে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর সেখ বেনজির আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শেখ মাসুদ আহম্মদ এবং গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অগ্নিবীণা শিল্প ও সাহিত্য সংসদের আহবায়ক এবং গোপালগঞ্জ সরকারি নজরুল কলেজের ইংরেজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক (অবঃ) গোলাম মোস্তফা (জি.এম)।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের পর সকল ভাষা শহীদের প্রতি সম্মান জানিয়ে উপস্থিত সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিটের নীরবতা পালন করেন।
অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ (কী নোট পেপার) উপস্থাপন এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সঞ্চালনা করেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক অনুরাগী, সাংবাদিক ও কেমিস্ট শেখ ফরিদ আহমেদ।
উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধে শেখ ফরিদ আহমেদ ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে বাংলা ভাষার প্রাসঙ্গিকতা অত্যন্ত নিপুণভাবে তুলে ধরেন। তিনি তার প্রবন্ধে উল্লেখ করেন যে, একুশের চেতনা কেবল একটি নির্দিষ্ট দিনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে আজীবন লড়াই করার প্রেরণা। প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় বক্তারা বলেন, অমর একুশ এমন একটি চেতনা যা দুর্নীতি, অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে উদ্বুদ্ধ করে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে শেখায়। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষার শুদ্ধ চর্চা ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পৌঁছে দিতে সাংস্কৃতিক সংগঠনের ভূমিকা অপরিসীম। বিশেষ করে প্রযুক্তির এই যুগে ভাষার বিকৃতি রোধে এবং তরুণ সমাজকে শেকড়ের সন্ধানে উদ্বুদ্ধ করতে অগ্নিবীণা শিল্প ও সাহিত্য সংসদের মতো সংগঠনগুলোকে আরো জোরালো ভূমিকা রাখতে হবে।
বক্তারা আরো উল্লেখ করেন, ভাষা শহীদের আত্মত্যাগই আজ আমাদের বিশ্ব দরবারে স্বতন্ত্র জাতিস্বত্তা হিসেবে পরিচিতি দিয়েছে। তাই প্রমিত বাংলার ব্যবহার এবং জাতীয় জীবনে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলন করাই হোক আজকের অঙ্গীকার। আলোচনা সভা শেষে ভাষা শহীদের আত্মার মাগফিরাত এবং দেশের সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সংগঠনের বিপুল সংখ্যক সদস্য সহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
Leave a Reply