1. modhumotikanthobd@gmail.com : Shohidul Islam : Shohidul Islam
  2. modhumotikantho@gmail.com : support : Shohidul Islam
সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ১২:৪৫ অপরাহ্ন

  • Update Time : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬
  • ২৫ Time View

হাতকড়া পরে বাবার দাফনে যুবলীগ কর্মী চঞ্চল, জানাজা না পেয়ে বললেন—‘আমি এক হতভাগ্য ছেলে’

কে এম সাইফুর রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জেলখানা থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার দাফনে অংশ নিলেন যুবলীগ কর্মী চঞ্চল মিয়া। তবে সময়মতো পৌঁছাতে না পারায় বাবার জানাজার নামাজে অংশ নিতে না পেরে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমি এক হতভাগ্য ছেলে।”
জেলবন্দি চঞ্চল মিয়ার বাবা কোটালীপাড়া উপজেলার গচাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক শনিবার (৭ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে মারা যান।
রোববার (৮ মার্চ) যোহরের নামাজের পর ২ টা ৩০ মিনিটে উপজেলার চিত্রাপাড়া এম এম খান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
এদিকে বাবার জানাজায় অংশ নিতে চঞ্চল মিয়ার স্ত্রী বিলকিস বেগম রোববার সকালে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চঞ্চল মিয়াকে দুপুর ১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চার ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলখানায় পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় তিনি প্রায় দুপুর ২টা ৩০ মিনিটে মুক্তি পান। পরে পুলিশি পাহারায় তাঁকে ৩টার দিকে কোটালীপাড়ার চিত্রাপাড়া এম এম খান উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু তিনি সেখানে পৌঁছানোর আগেই বাবার জানাজার নামাজ শেষ হয়ে যায়। পরে হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার লাশের খাটিয়া কাঁধে তুলে নিয়ে চিত্রাপাড়া কবরস্থানে দাফনের জন্য নিয়ে যান চঞ্চল মিয়া। দাফন শেষে বিকাল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে পুলিশ তাঁকে আবার গোপালগঞ্জ জেলা কারাগারে নিয়ে যায়।
কোটালীপাড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত কুমার জানান, প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর বিকাল ৩টার দিকে পুলিশি পাহারায় জেলা কারাগার থেকে চঞ্চল মিয়াকে কোটালীপাড়ায় আনা হয়। তিনি হাতকড়া পরা অবস্থায় বাবার দাফনে অংশ নেন এবং দাফন শেষে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। দাফনের সময় উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে চঞ্চল মিয়া আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, আমি বাবার হতভাগ্য ছেলে। মিথ্যা মামলায় পাঁচ মাস ধরে জেলে আছি। বাবার অসুস্থতার সময় তাঁর পাশে থাকতে পারিনি। এমনকি বাবার জানাজার নামাজেও অংশ নিতে পারলাম না। আমার বাবাকে সবাই ক্ষমা করে দেবেন। তিনি বাবার জানাজায় উপস্থিত হওয়ার জন্য মুসল্লিদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। চঞ্চল মিয়ার স্ত্রী বিলকিস বেগম বলেন, তাঁর স্বামী একজন ব্যবসায়ী। গত বছরের ৯ অক্টোবর ঢাকার হাতিরপুল এলাকার ভূতের গলি থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে পুলিশ তাঁকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। পরে কোটালীপাড়ার ওয়াবদারহাটে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় (মামলা নং ১৫২/২৫) তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বিলকিস বেগম আরো বলেন, আমার স্বামী নিরপরাধ। ৫ মাস ধরে জেলে থাকায় ৩ কন্যা সন্তানকে নিয়ে আমি মানবেতর জীবনযাপন করছি। আমি আমার স্বামীর মুক্তি চাই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021
Design & Developed By : Modhumoti Kantho