কোটালীপাড়ায় ইউএনওর কক্ষের সামনে সাংবাদিকের ওপর ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বর্বরোচিত হামলার অভিযোগ
কে এম সাইফুর রহমান, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মহান স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের হাতে বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। হামলার শিকার সাংবাদিকদের নাম কালাম তালুকদার।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদের দ্বিতীয় তলার হলরুম থেকে বের হওয়ার সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে এ ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে। আহত কালাম তালুকদার কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এবং দৈনিক ভোরের আলো পত্রিকার গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি। তিনি রাধাগঞ্জ ইউনিয়নের শ্রীফলবাড়ি গ্রামের মৃত জবেদ আলী তালুকদারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত স্বাধীনতা দিবসের প্রস্তুতি সভার সংবাদ সংগ্রহ করতে কালাম তালুকদার হলরুমে গিয়েছিলেন। সভা চলাকালীন সময়ে কক্ষ থেকে বের হলে কোটালীপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লালন শেখ, সদস্য সচিব নিলয় হাওলাদার মোস্তফা এবং ধারাবাশাইল সরকারি আদর্শ কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হামিম বিশ্বাস সহ ১০/১২ জন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে এবং টেনেহিঁচড়ে নিচতলায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। এ সময় হামলাকারীরা সাংবাদিক কালাম তালুকদারকে উপজেলায় না যাওয়ার জন্য হুমকি দিয়ে বলেন, “তোরা আর সাংবাদিকতা করতে পারবি না। তোদের যেন আর কোথাও না দেখি।” পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম মহিউদ্দিন মুঠফোনে বলেন, হামলার বিষয়টি আমি শুনেছি। কি কারনে ছাত্রদল নেতারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানার জন্য আমি তাদেরকে ডেকেছি। কেউ অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনে ঘটে যাওয়া এই হামলার ঘটনায় জেলায় কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পরপরই তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে প্রেসক্লাব গোপালগঞ্জ, গোপালগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়ন ও কোটালীপাড়া সাংবাদিক ফোরামসহ জেলায় কর্মরত সাংবাদিকেরা। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দরা বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনের নাকের ডগায় একজন সাংবাদিকের ওপর এই ধরণের বর্বরোচিত হামলা মুক্ত সাংবাদিকতার ওপর চরম আঘাত। আমরা অনতিবিলম্বে লালন শেখ সহ এই হামলার সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
বিষয়টি জানার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হককে বারবার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ উজ-জামান জানান, বিষয়টি তিনি জেনেছেন এবং
এবিষয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

Leave a Reply