গোপালগঞ্জ-২ আসনে ১০ দলীয় ঐক্যজোট প্রার্থী মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জ-২ আসনে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোটের প্রার্থী মুফতি শুয়াইব ইবরাহীমের সাথে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট -২০২৬ উপলক্ষে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য জোট সমর্থিত বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ মনোনীত গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি শুয়াইব ইবরাহীম সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর ১২ টায় শহরের বিসিক সংলগ্ন খেলাফত মজলিশের জেলা প্রধান কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় লিখিত বক্তব্যে মুফতি শুয়াইব ইবরাহীম নির্বাচনী ইশতিহারে বলেন,
১. শিক্ষা উন্নয়ন : “গোপালগঞ্জ-২ হবে শিক্ষায় অগ্রগামী- প্রতিটি ইউনিয়নে স্কুল-কলেজ উন্নয়ন প্রকল্প, ভবন সংস্কার ও আধুনিক শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিতকরণ। মেধাবী অসহায় শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা তহবিল গঠন। স্মার্ট ক্লাসরুম ও আইসিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে ডিজিটাল শিক্ষা নিশ্চিত করণ। নারী শিক্ষার হার বাড়াতে নিরাপদ পরিবেশ, পরিবহন ব্যবস্থা ও উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা। সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং নৈতিকতা ভিত্তিক সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তন।
২. কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন : “যুবকের হাতে কাজ, পরিবারের মুখে হাসি” কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মানোন্নয়ন এবং বিস্তৃত প্রশিক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ। (আইটি, ইলেকট্রিক্যাল, অটোমোবাইল, গার্মেন্টস ইত্যাদি)। এসএমই উদ্যোগ-ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য প্রশিক্ষণ, সুদমুক্ত ঋণ ও বিপণন সহায়তা। তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে স্টার্টআপ সহায়তা তহবিল গঠন। নারীদের জন্য হোম-বেইজড কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি। কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা-পোল্ট্রি, মৎস্য, দুগ্ধ এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা প্রদান।
৩. কৃষি ও কৃষক উন্নয়ন: “কৃষকের ঘরে সমৃদ্ধি : কৃষি দপ্তরের সেবা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা। সেচ, খাল পুনঃখনন ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করে উৎপাদন বাড়ানো। কৃষিপণ্য সংগ্রহ কেন্দ্র, কোল্ড স্টোরেজ ও বিপণন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। ভেজালমুক্ত সার, বীজ ও কীটনাশক নিশ্চিতকরণে কঠোর তদারকি। কৃষিযন্ত্র, লিজ ব্যবস্থা এবং যান্ত্রিকীকরণে কৃষক প্রশিক্ষণ। নতুন প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে এগ্রি এক্সটেনশন সাপোর্ট টিম।
৪. স্বাস্থ্যসেবা : “সবার জন্য সহজলভ্য ও মানবিক চিকিৎসা : উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করণ। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে পর্যাপ্ত ওষুধ, মাতৃস্বাস্থ্য সেবা ও প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগ প্রদান গ্রামের মানুষকে দ্রুত চিকিৎসা দিতে অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বল্পমূল্যের স্বাস্থ্যসেবা কার্ড প্রদান।
৫. অবকাঠামো ও জনসেবা : গ্রাম ও শহরে সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট, ড্রেসেজ ব্যবস্থার পরিকল্পিত উন্নয়ন ,প্রতিটি পরিবারে নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া। বাজার, খেলার মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার ও যুব কেন্দ্র নির্মাণ। আধুনিক নগরায়ণ ও পরিবেশবান্ধব টেকসই জনসেবা সম্প্রসারণ।
৬. সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন : ভূমি, কৃষিসেবা, ভাতা ইত্যাদি সহজ করতে ফ্রি অনলাইন জনসেবা ডেস্ক। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্যসহনশীলতা নীতি অবলম্বন। নাগরিক মতামত ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জনমিতি মনিটরিং কমিটি
৭. সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা : মসজিদ-মাদ্রাসা, ঈদগাহ, কবরস্থান ও উপাসনালয় উন্নয়ন। প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের জন্য সহায়তা বৃদ্ধি। যুবকদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা ও নৈতিক উন্নয়নের কর্মসূচি। জঙ্গিবাদ, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে সমন্বিত উদ্যোগ।
৮. গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব, সহিংসতা ও রক্তপাত বন্ধে শান্তিসম্প্রীতির উদ্যোগ : গোপালগঞ্জ-২ এর একটি দীর্ঘদিনের ক্যান্সার-গোষ্ঠীগত মারামারি, স্বন্দ্ব ও খুনোখুনি। এ ধরনের অশান্তি আমাদের উন্নয়নকে পিছিয়ে দেয়। তাই আমার প্রধান অঙ্গীকার।
৯. “সম্প্রীতি ফোরাম” গঠন : প্রতিটি ইউনিয়নে শিক্ষক, আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও তরুণদের নিয়ে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব ফোরাম গঠন। প্রাক-সমঝোতা বোর্ড ,থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সমঝোতা বোর্ড-যাতে ছোট বিরোধ বড়ো সংঘাতে পরিণত না হয়। শিক্ষা ও তরুণ সমাজকে সম্প্রীতির পথে যুক্ত করাn বিদ্যালয়ে শান্তি, সহনশীলতা ও নৈতিকতা বিষয়ক সচেতনতা। খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-যুবকদের ইতিবাচক পথে ব্যস্ত রাখা। ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের ভূমিকা, প্রতিটি এলাকায় শান্তি সম্প্রীতি প্রচারণা সপ্তাহ পরিচালনা। “ভালোবাসার গোপালগঞ্জ-২ চুক্তি, জয়ের পর জনগণকে নিয়ে উপজেলা-স্তরে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব ঘোষণা। দ্রুত হস্তক্ষেপ ব্যবস্থা সংঘাতের ইঙ্গিত পেলেই প্রশাসন ও কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগে দ্রুত হস্তক্ষেপ ইউনিট সক্রিয় করা।
১০. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ : ইসলামের দৃষ্টিতে একটি ইসলামি রাষ্ট্রে একজন মুসলিম নাগরিকের যে পরিমাণ নিরাপত্তা থাকবে, একজন অমুসলিমেরও সেই পরিমাণ নিরাপত্তা থাকবে। গোপালগঞ্জ-২ এ বসবাসরত সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নাগরিকের সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ। সংখ্যালঘু পরিবার, উপাসনালয় ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রশাসনিক সমন্বয়। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উৎসব পালনে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান। বৈষম্য ও নিপীড়নের দ্রুত অভিযোগে গ্রহণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা।
এ সময় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মোরতাজা হসান, উপদেষ্টা মুফতি মাসউদুর রহমান ও মাওলানা ওমর ফারুক, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য গোপালগঞ্জ-২ আসনের সদস্য সচিব মুফতি আহমাদুল্লাহ, গোপালগঞ্জ জামায়াতে ইসলামী প্রাচার ও মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাজী ইজহারুল ইসলাম ও খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি মুফতি আবুল ফাত্তাহ ’সহ ১০ দলীয় ঐক্য জোটের বিভিন্ন নেতাকর্মী ও জেলায় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকগণ উপস্
Leave a Reply